বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কমবরিশালের সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট কিবরিয়া - বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কম
শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮, , সকাল ৮:৪২

প্রকাশিতঃ মার্চ ৩১, ২০১৬ ৮:২১ অপরাহ্ণ
A- A A+ Print

বরিশালের সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট কিবরিয়া

‘সব সাংবাদিক আমি দেখে নিব। প্রয়োজন হলে সাংবাদিকদের গাড়ি আটক করে কেস দিয়ে মতার প্রমাণ দিব। সাংবাদিকদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয় তা আমার জানা আছে’। দাবিকৃত উৎকোচ না পাওয়ায় বুধবার সন্ধ্যার পর বরিশালের ফলপট্রি চৌমাথা এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় এভাবেই হুঙ্কার দেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট কিবরিয়া। সাংবাদিকদের এমন হুমকি দেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন ওই সার্জেন্ট। পরে কৌশলে তাকে সরিয়ে দেন ওই এলাকায় একই সময় দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ােভের সঞ্চার হয়। তদন্ত সাপেে ওই দুর্নীতিবাজ সার্জেন্টের শাস্তি দাবি করেছেন সংবাদকর্মীরা। সূত্র জানায়, সম্প্রতি বরিশালের  ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে সকাল সন্ধ্যা নানা অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন গাড়ি আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে সুযোগ বুঝে টাকার বিনিময়ে কিছু গাড়ি স্পটে ছেড়ে দিলেও অবশিষ্ট আটককৃত গাড়ি দিয়ে শুরু হয় নাটকীয় আটক বাণিজ্য। শুধু তাই না, সময়ে অসময়ে ঘুষ আদায়, পরিবহন থেকে মাসোহারা আদায়, ড্রাইভারদের ধমক দিয়ে চাঁদাবাজি, গাড়ি আটক বাণিজ্য, চাবি বাণিজ্য, টোকেন বাণিজ্য, কেস রসিদ বাণিজ্যসহ সব মিলে বরিশাল পরিবহন সেক্টরে মূর্তিমান আতংক হয়ে উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতিবাজ সার্জেন্ট কিবরিয়া। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হুমকি-ধমকিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে  যত্রতত্র  যানবাহন দাড় করিয়ে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে বরিশাল নগরীতে অনেকাংশে যানজটের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাড়ীর তীব্র যানজট তারপরেও ট্রাফিক পুলিশ গাড়ী থামান ‘টু পাইস’ কামানোর আশায়। মটর সাইকেল চালক সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সার্জেন্ট কিবরিয়া তার গাড়িটি থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র দেখানো হলেও তার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এরপর বেশ কিছুণ ২ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পান তিনি। টাকা না দেয়া হলে ভারি মামলায় দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। একই অভিযোগ ইব্রাহিম ও খালিদ নামের দুই মটর সাইকেল চালকের। তারা বলেন, একটি গাড়ি দিনে কয়েকবার করে আটক করেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট কিবরিয়া। গাড়ি আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। একটি গাড়ি বার বার আটক করে বার বার টাকা আদায় করার কারণে অতিষ্ট হয়ে তাদের সাথে ওই সার্জেন্টের কথা কাটাকাটি হয়। একাধিক মোটর সাইকেল মালিক অভিযোগ করেছেন, ঠুনকো অপরাধে মোটর সাইকেল আটক করে  ট্রাফিক পুলিশ মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করে। এ অবস্থার যানবাহন মালিক-শ্রমিক ও মোটর সাইকেল আরোহীরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল ফলপট্রি চৌমাথায় এমনি ভাবে কয়েকজন সংবাদকর্মীর গাড়ি থামায় সার্জেন্ট কিবরিয়া। এসময় তার সাথে থাকা এসআই আসলাম সংবাদকর্মীদের কাগজপত্র দেখে তাদের যেতে বললেও কিবরিয়া কিছু উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচ না দিলে গাড়ি গুলো ছাড়া যাবে না বলে জানান তিনি। এ নিয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় কিবরিয়ার। এক পর্যায় তিনি বরিশালের সব সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তাদের ফোন পেয়ে সংবাদকর্মীদের গাড়ি ছেড়ে দেন কিবরিয়া। তদন্ত সাপেক্ষে কিবরিয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা সাংবাদিকদের জানান ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

 বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডট কম

বরিশালের সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট কিবরিয়া

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৩১, ২০১৬ ৮:২১ অপরাহ্ণ

‘সব সাংবাদিক আমি দেখে নিব। প্রয়োজন হলে সাংবাদিকদের গাড়ি আটক করে কেস দিয়ে মতার প্রমাণ দিব। সাংবাদিকদের কিভাবে শায়েস্তা করতে হয় তা আমার জানা আছে’। দাবিকৃত উৎকোচ না পাওয়ায় বুধবার সন্ধ্যার পর বরিশালের ফলপট্রি চৌমাথা এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় এভাবেই হুঙ্কার দেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট কিবরিয়া। সাংবাদিকদের এমন হুমকি দেওয়ার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন ওই সার্জেন্ট। পরে কৌশলে তাকে সরিয়ে দেন ওই এলাকায় একই সময় দায়িত্ব পালনকারী অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ােভের সঞ্চার হয়। তদন্ত সাপেে ওই দুর্নীতিবাজ সার্জেন্টের শাস্তি দাবি করেছেন সংবাদকর্মীরা। সূত্র জানায়, সম্প্রতি বরিশালের  ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে সকাল সন্ধ্যা নানা অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন গাড়ি আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। পরে সুযোগ বুঝে টাকার বিনিময়ে কিছু গাড়ি স্পটে ছেড়ে দিলেও অবশিষ্ট আটককৃত গাড়ি দিয়ে শুরু হয় নাটকীয় আটক বাণিজ্য। শুধু তাই না, সময়ে অসময়ে ঘুষ আদায়, পরিবহন থেকে মাসোহারা আদায়, ড্রাইভারদের ধমক দিয়ে চাঁদাবাজি, গাড়ি আটক বাণিজ্য, চাবি বাণিজ্য, টোকেন বাণিজ্য, কেস রসিদ বাণিজ্যসহ সব মিলে বরিশাল পরিবহন সেক্টরে মূর্তিমান আতংক হয়ে উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতিবাজ সার্জেন্ট কিবরিয়া। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও হুমকি-ধমকিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে  যত্রতত্র  যানবাহন দাড় করিয়ে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে বরিশাল নগরীতে অনেকাংশে যানজটের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাড়ীর তীব্র যানজট তারপরেও ট্রাফিক পুলিশ গাড়ী থামান ‘টু পাইস’ কামানোর আশায়। মটর সাইকেল চালক সাইদুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সার্জেন্ট কিবরিয়া তার গাড়িটি থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজপত্র দেখানো হলেও তার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এরপর বেশ কিছুণ ২ হাজার টাকার বিনিময়ে ছাড়া পান তিনি। টাকা না দেয়া হলে ভারি মামলায় দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। একই অভিযোগ ইব্রাহিম ও খালিদ নামের দুই মটর সাইকেল চালকের। তারা বলেন, একটি গাড়ি দিনে কয়েকবার করে আটক করেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট কিবরিয়া। গাড়ি আটক করে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। একটি গাড়ি বার বার আটক করে বার বার টাকা আদায় করার কারণে অতিষ্ট হয়ে তাদের সাথে ওই সার্জেন্টের কথা কাটাকাটি হয়। একাধিক মোটর সাইকেল মালিক অভিযোগ করেছেন, ঠুনকো অপরাধে মোটর সাইকেল আটক করে  ট্রাফিক পুলিশ মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করে। এ অবস্থার যানবাহন মালিক-শ্রমিক ও মোটর সাইকেল আরোহীরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল ফলপট্রি চৌমাথায় এমনি ভাবে কয়েকজন সংবাদকর্মীর গাড়ি থামায় সার্জেন্ট কিবরিয়া। এসময় তার সাথে থাকা এসআই আসলাম সংবাদকর্মীদের কাগজপত্র দেখে তাদের যেতে বললেও কিবরিয়া কিছু উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচ না দিলে গাড়ি গুলো ছাড়া যাবে না বলে জানান তিনি। এ নিয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় কিবরিয়ার। এক পর্যায় তিনি বরিশালের সব সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে তাদের ফোন পেয়ে সংবাদকর্মীদের গাড়ি ছেড়ে দেন কিবরিয়া। তদন্ত সাপেক্ষে কিবরিয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের কথা সাংবাদিকদের জানান ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : খন্দকার রাকিব ।
ফকির বাড়ি, ৫৫৪৫৪ বরিশাল।
মোবাইল: ০১৭২২৩৩৬০২১
ইমেইল : rakibulbsl@gmail.com, barisalcrimenews@gmail.com